• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৬ই চৈত্র ১৪৩২ সকাল ০৮:৩৫:১৪ (30-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
সংবাদ ছবি

কেমন কেটেছে বৃদ্ধাশ্রমের মানুষের ঈদ

রংপুর ব্যুরো: বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষের জীবন কাটে চরম দূর চিন্তায় ও একাকীত্ব আর শূন্যতায়। আত্মীয় স্বজন ও সন্তানদের স্মৃতির বেদনায় কেঁপে উঠে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রতিটি বাবা-মা।বৃদ্ধাশ্রমে থাকা রইস উদ্দীন (৮৫) রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হরিশচর এলাকায় করতেন বসবাস। ১ যুগ আগেও বিশ বিঘা সম্পত্তির মালিক ছিলেন তিনি, করেছেন কৃষি কাজ, মানুষকে দিয়েছেন দান-সদকা, এমনকি গ্রামের মাতাব্বর হিসেবে ছিলেন তিনি, তবে আজ তাঁর একাকীত্ব জীবনযাপন।রইস উদ্দীনের ৬ ছেলে-মেয়ের হয়েছে বিয়ে, সুখে কাটছে তাদের দিন। সবাই বেঁচে থাকলেও শুধু চিরদিনের জন্য হারিয়েছেন নিজের স্ত্রীকে। এর পরেই টান পরে সংসারে আর সব সম্পত্তি নিষ্ঠুর সন্তেরা ভাগ করে বের করে দেয় হতভাগা সেই বাবাকে। নিরুপায় হয়ে বেঁচে নিয়েছেন রংপুরের ৭ নং ওয়ার্ডের বকসা বৃদ্ধাশ্রমে।এক দু-দিন নয়, এভাবেই দিনের পর দিন একাকী জীবন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রম বা প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দারা। বছরের পর বছর চলে গেলেও খোঁজ রাখেন না সন্তানেরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনটাও তাদের কেটেছে স্বজন ছাড়া।সালাম মিয়া জানান, অন্যান্য দিন নিজেদের মতো করে খাবার চললেও বিশেষ করে ঈদের দিন প্রতিষ্ঠানটি খাবারের আয়োজন করেছে গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডিম, ডাল, ভর্তা ইত্যাদি।বৃদ্ধাশ্রম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রেজাউল করিম বলেন, ভাগ্যের নির্মমতায় যখন নিজের ঘরেও মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই, তখন এসব নিবাসের বসবাসরত বাবা-মা আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। নিবাসে বসবাসরতদের ঈদে ভালো খাবার দেওয়া হলেও তারা নিজের পরিবার ও সন্তানের কথা মনে পড়ায় নীরবে কাঁদে।বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত মানুষের জীবন কাটে চরম একাকীত্ব আর শূন্যতায়, এবং স্বজনদের স্মৃতির বেদনায় চোখের জল গড়ায় মাটিতে। এরপরেও নিষ্ঠুর সন্তানেরা একবারও নেয় না বাবা-মায়ের খোঁজ। বর্তমানে ২৬ জন নারী-পুরুষ বৃদ্ধাশ্রমে একাকী জীবনযাপন করছেন।