পাখি মারার ফাঁদ, বড়ই বাগান রক্ষার্তে প্রতিদিন জালে আটকে মারা যাচ্ছে শত শত পাখি
স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামে এক একর জমিজুড়ে একটি বড়ই বাগানে বড়ই রক্ষার নামে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত পাখি নিধন করা হচ্ছে। বাগান মালিক আলাউদ্দীন মিয়ার পাতা ফাঁদে বুলবুলি, ঘুঘু, দোয়েল, শালিক, বাদুড়সহ নানা দেশীয় প্রজাতির পাখি মারা যাচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে বড়ই মৌসুম এলেই তিনি এভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পেতে নিষ্ঠুরভাবে পাখি নিধন করে আসছেন। বাগান রক্ষার নামে এ ধরনের ব্যয়বহুল ও অবৈধ পদ্ধতিতে পাখি নিধন পরিবেশ আইনে গুরুতর অপরাধ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এতে একদিকে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য দেশীয় পাখি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও পাখিপ্রেমীরা।সরেজমিনে ২৮ জানুয়ারি বুধবার সোহাগদল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত আলাউদ্দীন মিয়ার বড়ই বাগানে গিয়ে পাখির প্রতি এ বর্বরতার হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা যায়।স্থানীয়রা জানান, তার পাতা জালে প্রতিদিন শত শত বিভিন্ন প্রজাতির পাখি মারা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জালে আটকা পড়া পাখিদের মধ্যে খাবারযোগ্য বক, ঘুঘু ও মাছরাঙা বেছে নিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। বাকি মৃত পাখিগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, আলাউদ্দীন মিয়া প্রায় তিন বছর ধরে নিজ জমিতে বড়ই চাষ করছেন। পাখির আক্রমণ থেকে বড়ই রক্ষার অজুহাতে তিনি প্রায় এক একর বড়ই বাগান ঘিরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করছেন। ফলে বড়ই মৌসুমে খাবারের আশায় আসা পাখিরা জালে আটকে ছটফট করে মারা যাচ্ছে। তিনি একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদশা মিয়া বলেন, বড়ই রক্ষার নামে এভাবে জাল পেতে প্রতিদিন শত শত পাখি মারা হচ্ছে। চাইলে পাখি নিধন না করে সহজ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে বাগান থেকে পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেত।এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বাগান মালিক আলাউদ্দীন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।নেছারাবাদ উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন বলেন, এভাবে পাখি নিধন বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, বড়ই বাগানে বড়ই রক্ষার নামে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে পাখি নিধন অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।