নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১২ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।
সম্পূর্ণ নিরীহ পথচারী হিসেবে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গুলির আঘাতে গুরুতর আহত হয় শিশু ইমরান হোসেন, যার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।


৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পঞ্চবটি এলাকার চাঁদনী হাউজিংয়ে বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট গার্মেন্টসের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ২ জন এবং ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন আরও ৮ জন।

গুলিবিদ্ধ ইমরান হোসেন (১২) কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল-ঠিক সেই সময়ই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় কাতরাতে থাকে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার চলছে।
ইমরানের বাবা আসমাউল হোসেন বলেন, “আমার ছেলে তো শুধু পথ দিয়ে যাচ্ছিল, কোনো দোষ ছিল না। তার বুকের নিচে গুলি লেগেছে, অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। ডাক্তার বলছেন অবস্থা খুবই খারাপ।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সারজিল আহমেদ অভি গ্রুপ এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টসের ঝুট দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকাল থেকেই উভয় পক্ষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে শুরু হয় গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ।
এই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন আরও একজন— রাকিব (২২), যিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা খোকা মিয়ার ছেলে।
এদিকে গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণে পুরো চাঁদনী হাউজিং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসিন্দারা দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার আগে কখনও দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অপরদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে যে, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের বলি কেন হবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৫ মাস যাবৎ এ গার্মেন্ট থেকে মাল নামাচ্ছে। নতুন করে অভি গং এখানে ব্যবসা দখল করতে এলেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, আমি বিষয়টি পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।
গুলিবিদ্ধ আহত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রাকিবের বাবা খোকা প্রধান বলেন, যুবদল নেতা রনি ও যুবদল নেতা অভি গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েই গুলিবিদ্ধসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available