রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটির লংগদু উপজেলাধীন কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান অবস্থায় একটি মৃত হরিণ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
২২ মে শুক্রবার বিকেলে দ্বীপ কাট্টলী বাজার সংলগ্ন হ্রদের পানিতে হরিণটিকে ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান জানান, হরিণটি পানিতে ভাসতে দেখার পরপরই বিষয়টি স্থানীয়দের অবহিত করা হয়। পরে এলাকাবাসী মৃত হরিণটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে বাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশ ক্যাম্পের পাশেই মাটি চাপা দেন।
স্থানীয়দের ধারণা, শিকারি কিংবা কোনো হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে প্রাণ বাঁচাতে হরিণটি হ্রদে ঝাঁপ দিয়েছিল। পরে পানিতে দীর্ঘসময় থাকার কারণে স্ট্রোক বা শারীরিক দুর্বলতায় প্রাণ হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির সহায়তায় জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি ভারতীয় মুন্টজ্যাক বা “বার্কিং ডিয়ার” প্রজাতির হরিণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলায় এটি “কাকর হরিণ” নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম “মুন্টিয়াকাস মুন্টজাক”।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্কিং ডিয়ার আকারে তুলনামূলক ছোট এবং সাধারণত লালচে-বাদামি বা হালকা খয়েরি রঙের হয়ে থাকে। পুরুষ হরিণের ছোট শিং দেখা যায়। বিপদের আভাস পেলে এরা কুকুরের ঘেউ-ঘেউয়ের মতো শব্দ করে, এ কারণেই এদের “বার্কিং ডিয়ার” বলা হয়।
এই প্রজাতির হরিণ সাধারণত বনাঞ্চল, ঝোপঝাড় ও পাহাড়ি এলাকায় বিচরণ করে। বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এদের বিস্তৃতি রয়েছে। ঘাস, পাতা, ফল ও কচি ডালপালা এদের প্রধান খাদ্য।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বার্কিং ডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বনজ উদ্ভিদের বীজ ছড়িয়ে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এরা। তবে বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের কারণে বর্তমানে অনেক এলাকায় এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available