অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
স্থানীয় সময় ১৫ মে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা বন্ধে দ্রুত কোনো সমঝোতার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে।


এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৪ ডলার বেড়ে দাঁড়ায় ১০৯ দশমিক ২৬ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ২৫ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়। খবর রয়টার্সের।

সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর পেছনে ইরান যুদ্ধের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে।
জার্মান ব্যাংক কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আবারও অনেক বেশি সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি থাকলেও হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার আশা ফিকে হয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার বলেন, তেহরানের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘কোনো আস্থা নেই’। তবে ওয়াশিংটন আন্তরিক হলে ইরান আলোচনায় আগ্রহী।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান আবার যুদ্ধেও ফিরতে প্রস্তুত, একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথেও প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার ধৈর্য শেষ হয়ে আসছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিনি একমত হয়েছে যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি সৌদি আরব, ইরাক ও কাতারের মতো দেশগুলোর প্রধান জ্বালানি রপ্তানি পথ।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই সংঘাতের কোনো কারণ ছিল না এবং এটি চলতে থাকারও কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে আগ্রহী এবং ইরানি তেল কেনা চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও তিনি বিবেচনা করতে পারেন।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আবারও হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং নতুন সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকির দিকে ফিরে গেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩০টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যদিও যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘ সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং সামনের সপ্তাহ ও মাসগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available