• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৮শে চৈত্র ১৪৩২ রাত ১০:০৫:৩৮ (11-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:

নোবিপ্রবির হলে নিম্নমানের খাবার, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

১১ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫৫:৪১

নোবিপ্রবির হলে নিম্নমানের খাবার, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছর পার হলেও পাঁচটি আবাসিক হলের খাবারের মানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। হলের ডাইনিংগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং চড়া দাম নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের পাশের দোকান অথবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলের ভেতর ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করে খাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ অপচয় ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডাইনিংয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের চালের ভাত দেওয়া হয়। মেন্যুতে বৈচিত্র্য নেই বললেই চলে; দুপুর ও রাতে প্রায় একই ধরনের মাছ, মাংস বা ডিম সরবরাহ করা হয়। খাবারের মান অনুযায়ী দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে বলেও তারা জানান।

Ad
Ad

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হলে ওঠার পর কয়েকদিন ডাইনিংয়ে খেয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। বিশেষ করে রাতের খাবারের মান এতটাই খারাপ থাকে যে মনে হয় বাসি বা অবশিষ্ট খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

Ad

ঈদুল ফিতরের পর থেকে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ হলের ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। এই হলের ছাত্রীরা পাশের নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ওপর নির্ভর করায় সেখানেও খাবারের সংকট তৈরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে খাবারের মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, ‘হলে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ জনের খাবার রান্না করা হলেও ৩০ জন খাবার গ্রহণ করছেন, যার কারণে ডাইনিং ব্যবস্থাপকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সেই জন্য উনারা মাঝে মধ্যেই ডাইনিং ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে আমি উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলেছি। আশা করি দুই - তিন দিনের মধ্যেই একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের শিক্ষার্থীরা হলের রান্নাঘর ও ডাইনিংয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, বাসি খাবার নতুন খাবারের সাথে মেশানো বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত সবজির আইটেম রাখতে হবে।

তবে হলের প্রভোস্ট ফরিদ দেওয়ান জানান, ‘আমরা ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি। কিছুদিন আগে ডাইনিং কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে কথা বলে কয়েকটা খাবারের মান ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া তেমন কোনো অভিযোগ আসেনি আমাদের কাছে। তবে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের কাছে আবেদনপত্র দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীরা জানান, ‘হলের প্রতিটি খাবারের দাম ৫০ টাকার বেশি, ফলে দিনে তিন বেলা খেতে গেলে ২০০ টাকারও বেশি খরচ হয়ে যায়। দুঃখজনক বিষয় হলো, এত বেশি মূল্য নেওয়া হলেও খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। অনেক সময় খাবার মুখে দিয়েই খেতে ইচ্ছা করে না। বিশেষ করে ডালের অবস্থা এমন যে মনে হয় যেন হলুদ মিশানো পানি।’

সার্বিক বিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘ক্যাফেটেরিয়া বন্ধের বিষয়টি জানার পরপরই আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা দায়িত্বে ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে দেরি হয়েছে। আমরা আবাসিক হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছি যাতে খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আমরা প্রভোস্টদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ







খোকসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক আহত
খোকসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক আহত
১১ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৮:৩৭:৩২


ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৮ হাজার টন ডিজেল
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৮ হাজার টন ডিজেল
১১ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫৮:২১



Follow Us