আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে আলোচনায় 'বড় অগ্রগতি' হয়েছে দাবি করে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
৬ মে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এমনটা জানান তিনি।


পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য এবং তেহরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অবরোধ কার্যকর থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব কি না তা দেখতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হবে। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ একটি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযান।
মূলত, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে 'নির্দেশনা দিয়ে' নিরাপদে বের করে আনা হবে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণার আগে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১১টি জাহাজ চলাচল করেছে। তবে, সোমবার এই জলপথ দিয়ে পার হয়েছিলো মাত্র ২টি জাহাজ।
স্থগিতের ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’কে 'ফেভার টু দ্য ওয়ার্ল্ড' হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সমুদ্রে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রুবিও বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৮৭টি দেশের প্রায় ২৩ হাজার বেসামরিক মানুষ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়েছেন এবং ইরান সরকার তাদের কার্যত অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখেছিলো।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ যাওয়ার অর্থই হলো 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র অধীনে ইরানের ওপর হামলা আনুষ্ঠানিকভাবে 'শেষ' হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, 'সামরিক অভিযান শেষ। সেই ধাপ আমরা শেষ করেছি। এখন আমরা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ এগোচ্ছি।'
এ সময় তিনি ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতাকেও বেশ জটিল ও হতাশাজনক বলে তুলে ধরেন।
এর আগে, এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে জাহাজগুলোকে তথ্য দেবে যুক্তরাষ্ট্র, তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ‘এসকর্ট মিশন’ কিংবা মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে 'না'।
সেন্টকম আরও জানায়, এ উদ্যোগে তারা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ১০০টিরও বেশি স্থল ও নৌ-ভিত্তিক বিমান এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করবে।
তবে ইরান এর আগেই সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
এছাড়াও আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি।
প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পশ্চিম সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের কেশম দ্বীপ-এর সর্বপশ্চিম প্রান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল-কুয়াইন আমিরাত পর্যন্ত একটি রেখা ধরে।
অন্যদিকে, পূর্ব সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের মাউন্ট মোবারাক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেখা পর্যন্ত।
তবে এই নতুন মানচিত্রে আইআরজিসির দাবিকৃত নিয়ন্ত্রণ কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা এখনো ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available