আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও অন্তত ৭০০ জনকে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ২৫ জুন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ২৪ জুন বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুই কম্পনের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল, যেখানে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের ঢালে ভবন ধসে পড়েছে। আতঙ্কিত মানুষজনকে প্রিয়জন ও পোষা প্রাণী নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বহু ভবন ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারাকাসের বহু এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ভূমিকম্প-সহনশীল প্রযুক্তিতে নির্মিত নয়। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউএসজিএসও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই দুর্যোগের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available