লাইফস্টাইল ডেস্ক: আপনার সন্তানের বয়স ১৮ হওয়ার আগেই, আরও স্পষ্টভাবে বললে আপনার সন্তান প্রেমে পড়ার আগে তাঁদের জানা উচিত, সম্পর্ক আদতে কী। সম্পর্কে জড়ানোর আগেই তাঁদের সঙ্গীকে সম্মান করা, আবেগগত বুদ্ধিমত্তা ও স্বাস্থ্যকর সীমানা (হেলদি বাউন্ডারি) সম্পর্কে ধারণা দিন। আপনার সন্তানকে জানান, ভালোবাসা মানে আরেকজনকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রচেষ্টায়, ইগো দিয়ে নয়। আর তর্কে জেতার চেয়ে শান্তি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জেনে নিন সম্পর্কে জাড়ানোর আগে সন্তানকে যে ২০টি কথা অবশ্যই বলবেন।

১. সন্তানকে বলুন, আকর্ষণীয় বলেই যে টান অনুভব করে অপর পক্ষ, তা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। মানুষটি কি তোমাকে সম্মান করে? এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন সব ফুরিয়ে যায়, কেবল একে অপরের প্রতি সম্মানবোধের ওপর ভর করেই সম্পর্ক এগিয়ে চলে। সময়ে আবার পুরোনো ‘স্পার্ক’ ফিরে পায়।


২. একটা মানুষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গুণ হলো দয়া আর সততা। সম্পর্কে জড়ানোর আগে দেখো, মানুষটি দয়ালু আর সৎ কি না।
৩. যতই ভালোবাসা বা যত্ন থাকুক না কেন, আরেকটা মানুষ যদি ‘গ্রো’ করতে না চায়, তাহলে সে কখনোই সেরে উঠবে না। সন্তানকে শেখান, ভালোবাসা অনুপ্রাণিত করতে পারে, কিন্তু সারিয়ে তুলতে পারে না। তাই কোনো ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য সম্পর্কে জড়ানো ভুল।
৪. আপনার সন্তানকে ‘না’ বলতে শেখান। কেননা ‘না’ বলার মাধ্যমে সে কেবল ভুল মানুষটার সঙ্গে দেয়ালই তোলে না, একই সঙ্গে সঠিক মানুষটাকে কাছেও টানেন।
৫. ক্ষণিকের উত্তেজনা, হরমোনের প্রভাব বা পেটের ভেতর প্রজাপতির ওড়াওড়ি—যা-ই বলি না কেন, সেটা খানিক পরেই ফিকে হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত থাকে ভরসা, বিশ্বাস আর শান্তি। তাই সন্তানকে জিজ্ঞাসা করুন, সেই মানুষটা পাশে থাকলে কি নির্ভার লাগে?
৬. যে ‘না’ বলেছে বা দূরে চলে গেছে, তার পেছনে ছোটা মানে নিজেকেই অসম্মান করা।
৭. ভালোবাসা মানে সুখ আর সুখ? আনন্দ আর আনন্দ? সন্তানের এই ভুল ধারণা ভেঙে দিন। বলুন, ভালোবাসা মানে দায়িত্ব, পরিশ্রম, প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
৮. সন্তানকে শেখান, ভালোবাসা মানে আরেকটি ব্যক্তিকে তাঁর মতো করেই গ্রহণ করে নেওয়া। তাঁর ব্যক্তিত্বের শক্তিশালী দিকগুলো মূল্যায়ন করা, উদ্যাপন করা, যাতে সেসব আরও ভালোভাবে বিকশিত হয়।
৯. ভালোবাসা মানে নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয়, বরং সঠিক মানুষের সংস্পর্শে আরও ভালোভাবে নিজেকে খুঁজে পাওয়া।
১০. সম্পর্কে যেকোনো বিষয়ে ভিন্নমত, মতবিরোধ থাকতেই পারে। তবে সম্পর্কে অসম্মানের কোনো স্থান নেই। তাই আপনার সন্তান যদি কোনো অসম্মানমূলক, ‘অ্যাবিউসিব’ বা ‘টক্সিক’ সম্পর্কে জড়িয়েও থাকে, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করুন।
১১. সন্তানকে ক্ষমা করতে শেখান; যদি অপর পক্ষ সত্যিই অনুতপ্ত হয়, ক্ষমা চায় তবেই। দ্বিতীয়বার সুযোগ একটা মানুষ পেতেই পারে। কিন্তু বারবার একই ভুল করা মানে জেনেবুঝে অপরাধ করা। সম্পর্কে অন্যায় বাড়তে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সন্তানকে সাফ জানিয়ে দিন। যাতে সে কোনো অবমাননাকর সম্পর্কে না জড়ায়, না থাকে।
১২. ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে বরং আরেকটু সময় নিতে বলুন। সঠিক মানুষ জীবনে আসার আগপর্যন্ত অপেক্ষা করার পরমর্শ দিন।
১৩. সম্পর্ক একটা স্বতঃস্ফূর্ত, দ্বিপক্ষীয় বিষয়। জোর করে সম্পর্ক হয় না। তাই তাড়াহুড়া করে বা কোনো চাপে পড়ে সন্তান যাতে সম্পর্কে না জড়ায়, এ বিষয়ে সতর্ক করুন। প্রাকৃতিকভাবে সম্পর্কটাকে গড়ে উঠতে দিন।
১৪. একা হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভুল সম্পর্কে থাকার বিষয়ে আগেই সতর্ক করে দিন। ভুল মানুষের সঙ্গে থাকার চেয়ে বরং একা থাকতে বলুন। কে কী ভাববেন, বলবেন ভেবে সম্পর্কে অসম্মান, মিথ্যা বা প্রতারণা সহ্য করার কোনো সুযোগ নেই। আপনার সন্তানকে বলুন, নিজেকে ভালো রাখার জন্য সে নিজেই যথেষ্ট।
১৫. আপনার সন্তানকে শেখান, অপর পক্ষ কী বলছে, তার চেয়ে অপর পক্ষ কী করছে, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১৬. সন্তানকে বারবার বলুন, সম্পর্কে স্ট্যাটাসের চেয়ে জরুরি হলো মানুষটি শান্তি দিতে পারছে কি না।
১৭. সম্পর্কে মিথ্যার কোনো স্থান নেই। যেকোনো বিষয়ে খোলামেলা আলাপের কোনো বিকল্প নেই।
১৮. সন্তানকে সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিতে বলুন।
১৯. সম্পর্কে জড়ানোর আগে সন্তানকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে বলুন।
২০. সন্তানকে ধীরে ধীরে একটা সম্পর্কে এগোতে বলুন। যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নিতে বলুন।
সূত্র: লাইফ চেঞ্জিং গাইড
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available