স্পোর্টস ডেস্ক: ফাইনালের অনেক সমীকরণই পাশে ছিল নিউজিল্যান্ডের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাস, অপয়া রোববার কিংবা টস– সবই পক্ষে ছিল তাদের। কিন্তু সেগুলোর সদ্ব্যবহার আর করতে পারল কোথাও? অভিষেক শর্মা-সান্জু স্যামসন-ইশান কিষাণদের ঝড়ে উড়ে গেল ভারতের সব দুশ্চিন্তার ঝাপ। নিউজিল্যান্ডের প্রথম শিরোপার আশা গুড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ তিনটি শিরোপা এখন ভারতের।
৮ মার্চ রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাব দিতে নেমে এক ওভার বাকি থাকতেই ১৫৯ রানেই গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। ৯৬ রানের বড় জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের শিরোপা ঘরে তুলল ভারত।


টি-টেয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি করে শিরোপা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড আর ভারতের। এবার তিনটি শিরোপা জিতে এককভাবে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ড নিজেদের করে নিল ভারত। পাশাপাশি টানা দুটি শিরোপা জয়ের রেকর্ডও গড়ল তারা।

ফাইনালের বড় মঞ্চেও ভারতকে স্বভাবজাত উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা আর সান্জু স্যামসন। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪৩ বলে ৯৮ রান করেন তারা। এরপর স্যামসন আর ইশান কিষাণের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৮ বলে আসে ১০৫ রান। এতেই পাহাড়সম রান যোগ হয় ভারতের ঝুলিতে।
সেই রান পাহাড়েই চাপা পড়েছে নিউজিল্যান্ড। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে তারা। পাওয়ার-প্লেতেই হারিয়েছে তিন উইকেট। ফিরে গেছেন ফিন অ্যালেন (৭ বলে ৯), রাচিন রবীন্দ্র (২ বলে ১) আর গ্লেন ফপস (৫ বলে ৫)।
সেই ধাক্কা সামলে ওঠতে পারেনি কিউরা। মাঝে ড্যারিয়েল মিচেল আর মিচেল স্যান্টনার মিলে চেষ্টা করেছেন। তবে তা পূর্ণতা পাওয়ার আগেই ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়েছে। ১১ বলে ১৭ রান করে ফিরেছেন গেছেন ড্যারিয়েল মিচেল। দায়িত্ব নিতে পারেননি জেমি নিশামও (৭ বলে ৮)।
একপ্রান্ত আগলে রেখে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন স্যান্টনার। তবে সেটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি থেমেছেন ৩৫ বলে ৪৩ রান করে। পুরো ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের মাত্র তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তিনটি উইকেট গেছে অক্ষর প্যাটেলে ঝুলিতে। একটি করে উইকেট পেয়েছেন অভিষেক শর্মা, বরুণ চক্রবর্তী আর হার্দিক পান্ডিয়া।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সান্জু স্যামসন। ম্যাট হেনরি-জ্যাকব ডাফিদের কোনো সুযোগ না দিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান তারা। কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার-প্লেতেই তুলে নেন ৯২ রান।
পাওয়ার-প্লের এক ওভার পরে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন রাচিন রাবীন্দ্র। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া অভিষেককে ফেরান উইকেটরক্ষক টিম শেইফার্টের ক্যাচ বানিয়ে। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ২১ বলে ৫২ রান করে ফিরে যান অভিষেক।
তবুও থামছিল না ভারতের রানের ঘোড়া। আরেক ওপনোর স্যামসন আর তিন নম্বরে নামা ইশান কিষাণ চালিয়ে যান তাণ্ডব। দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা।
এরপরই জোড়া আঘাত হানেন জেমি নিশাম। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরির কাছাকাছি যাওয়া স্যামসনকে ফেরান তিনি। ফেরার আগে ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন স্যামসন। ওভারের পঞ্চম বলে ফেরান ইশান কিষাণকেও। ২৫ বলে ৫৪ রান করেন তিনি।
এখান থেকেই গতি কমে ভারতের তাণ্ডবলীলার। এরপর গোল্ডেন ডাক করে ফিরে যান সূর্যকুমার যাদব। হার্দিক পাণ্ডিয়া ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। এতে একটা সময় মনে হচ্ছিল আড়াইশর আগেই থামবে ভারতের ইনিংস।
কিন্তু শেষ ওভারে আবারও সব হিসাব-নিকাশ বদলে দেন শিভাম দুবে। এই এক ওভার থেকেই সংগ্রহ করেন ২৪ রান। হাঁকান ৩টি চার আর ২টি ছক্কা। ভারতের রান ছাড়ায় আড়াইশ। দুবে অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ২৬ রানে আর তিলক ভার্মা ৬ বলে ৮ রানে।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন জেমি নিশাম। একটি করে উইকেট যায় ম্যাট হেনরি আর রাচিন রাবীন্দ্রর ঝুলিতে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available