চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় সাত হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ১১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রে চারজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের সদস্যরা প্রস্তুত থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠে থাকবেন সোয়াত সদস্যরাও।


নিরাপত্তা কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বিজিবি, উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার ব্যাটালিয়ন যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি পৌঁছে গেছে।
চট্টগ্রামে মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১ হাজার ৩১০টিকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আওতায় ১৬টি থানায় রয়েছে ৬০৭টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব কেন্দ্রে থানা পুলিশের বাইরে অতিরিক্ত ২ হাজার ১৩১ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রে ৮৯১ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১ হাজার ২৪০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে জেলা পুলিশের আওতাধীন ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্রে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৪১৯ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩৯ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১ হাজার ৩৮০ জন সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
র্যাব-৭ এর আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৪০০ জন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি আসনে দুটি করে টহল টিমের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে অতিরিক্ত টিম প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সিইও লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোথায় কতজন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত ছক প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে তিনজন অতিরিক্ত সদস্যও মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, প্রতিটি আসনকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে কাজ করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মহানগরের ৬০৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি ঝুঁকিপূর্ণ। খুলশী থানার ৪৭টির মধ্যে ৪৪টি এবং আকবর শাহ থানার সব ২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে বন্দর থানা এলাকায় কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়নি।
জেলার ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে ৪৮টি, চন্দনাইশে ৪২টি, বাঁশখালীতে ৪১টি, হাটহাজারীতে ৩০টি, সন্দ্বীপে ২৪টি, পটিয়ায় ২৪টি, বোয়ালখালীতে ২৫টি, রাউজানে ২১টি, আনোয়ারায় ১৩টি, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় ৬টি এবং ভূজপুরে ৩টি কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় ৬৮টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available