• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২২শে ফাল্গুন ১৪৩২ দুপুর ০২:৪৭:৫২ (06-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পয়েন্ট

৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:৪৭:৩৭

ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পয়েন্ট

সাবিনা আহমেদ:
১) আমেরিকা/ইসরায়েল বনাম ইরান উভয় পক্ষ তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। উভয় পক্ষের আক্রমণে হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী, নিউক্লিয়ার এবং মিসাইল প্রোগ্রামকে লক্ষ্য করেছে, যখন ইরান গাল্ফ দেশগুলোতে আমেরিকান ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ স্ট্রাইক হয়েছে, এবং যুদ্ধ রেজিম চেঞ্জের লক্ষ্যে চলছে।    

২) ট্রাম্প বলেছে সে অবাক হয়েছে এভাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে আক্রমণ করছে। আসলে ইরান গাল্ফ দেশগুলোতে, যেমন UAE, কুয়েত, বাহরাইন, কাতারে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি, রাডার সিস্টেম এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করছে। ট্রাম্প তার স্টেটমেন্টে বলেছেন যে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, এবং তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানের নৌ আর বিমান বাহিনী ধ্বংস হওয়ার কোনও প্রমাণ নাই। আজকেও ইরানের দুটো যুদ্ধবিমান লো এল্টিটিউড দিয়ে উড়ে, দুবাইয়ের রেডারকে ফাঁকি দিয়ে দুবাইয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়ে তারপর তাদের এফ-15 দিয়ে ভূপাতিত হয়েছে। ইরানের হামলা আমেরিকান ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নয়, এতে সিভিলিয়ান সাইট, যেখনে আমেরিকানরা ইসরায়েলির অবস্থান করছিল, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তেলের দাম ১৫% বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।    

Ad
Ad

৩) আমেরিকান কমান্ডারেরা তাদের সেনাদের বলছে এটা একটা ধর্ম যুদ্ধ। নেতানিয়াহু বলেছে ইরানিরা হচ্ছে আমলেক, যা তাদের ধর্মগ্রন্থের একটা টার্ম। আমলেক অর্থ একটা প্রাচীন শত্রু, যা বাইবেলে উল্লেখিত এবং নেতানিয়াহু ইরানী রেজিমকে এর সাথে তুলনা করেছে। এর আগে গাজাবাসীদের বলেছিল আমালেক । এতে ইরানী নারী, শিশু, বৃদ্ধ এমনকি পোষা প্রাণীদের হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে, আমেরিকান কমান্ডাররা সেনাদের বলছেন এটা “গডস ডিভাইন প্ল্যান” এবং ট্রাম্পকে “জিসাসের দ্বারা অভিষিক্ত” বলে উল্লেখ করছে, যা এই যুদ্ধকে আর্মাগেডনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে ইরান নয়, বরং আমেরিকার ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান এবং ইসরায়েলের জায়নিস্টরা আধুনিক যুদ্ধকে মধ্যযুগীয় ধর্মীয় যুদ্ধে পরিণত করছে।    

Ad

৪) ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে, ইরান প্রায় ৫৮৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১,৫২২টি ড্রোন ছুড়েছে। সংঘর্ষের শুরুর দিকে তেহরান তার মিসাইলের প্রায় ৪০ শতাংশ ইসরায়েলের দিকে লক্ষ্য করেছে, কিন্তু ৪ মার্চ নাগাদ সেই হার কমে ২০ শতাংশের সামান্য বেশি হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, ইরান মিসাইলের পরিবর্তে ড্রোনের উপর বেশি নির্ভর করছে, যা তার মিসাইল লঞ্চ ৮৬% কমিয়েছে।   এই সময়ে ইরান তার মিসাইল এবং ড্রোনগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকান ঘাঁটি এবং সামরিক সরঞ্জামের উপর লক্ষ্য করেছে। ইরানের লক্ষ্য এই যুদ্ধকে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল করে তোলা, এবং অন্যান্য দেশে হামলা করে আমেরিকার কূটনৈতিক খরচ বাড়ানো।

৫) মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো দেশের, এমনকি আমেরিকা আর ইসরায়েলেরও মাত্র ১-২ সপ্তাহের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল মজুদ আছে। এর অর্থ, যদি ইরান আরও দুই সপ্তাহ তার আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারে এবং তার লঞ্চার এবং মিসাইলের মজুদ থাকে, তাহলে এর পরে ইরান ইসরায়েল এবং অন্যান্য দেশের ক্ষয়ক্ষতি অনেক বাড়াতে পারবে। ইরানের ড্রোন এবং মিসাইল স্টক বনাম প্রতিপক্ষের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ক্যালকুলাস এই যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করবে। UAE-এর মতো দেশগুলো দাবি করছে তীব্র হামলায় তাদের স্টক দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। আমেরিকা গত জুনের যুদ্ধে ১৫০ THAAD ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, এবং এখন স্টক কম।    

৬) বর্তমানে $২৫-৫০ হাজার ডলারের প্রতিটি শাহেদ ড্রোনকে আটকাতে অন্যান্য দেশগুলো মিনিমাম  $৫-৬ মিলিয়ন ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করছে। ইরানের হাইপারসোনিক মিসাইলের বিরুদ্ধে THAAD ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করলে, প্রতিটির দাম প্রায় $১২.৬ মিলিয়ন। এই খরচের অসমতুলতা ইরানের পক্ষে কাজ করছে, কারণ শাহেদ ড্রোনগুলো সস্তা (২০-৫০ হাজার ডলার) এবং সহজে উৎপাদনযোগ্য, যখন Patriot বা SM-2 ইন্টারসেপ্টর তৈরিতে ২-৫ মিলিয়ন ডলার করে লাগে। এতে প্রতিপক্ষের রিসোর্স দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং এটাই ইরানের অ্যাট্রিশন যুদ্ধের কৌশল।    

৭) যুদ্ধে অফেন্সিভ পজিশনে না থেকেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হবে ইউনাইটেড আরব আমিরাত। এদের ট্যাক্স-ফ্রি হ্যাভেন, ট্রেডিং হাব এবং নিরাপদ বিলাসবহুল ট্রাভেল ডেস্টিনেশনের খ্যাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরান UAE-এ প্রায় ইসরায়েলের সমান মিসাইল এবং ড্রোন (১৮৯ মিসাইল, ৯৪১ ড্রোন) ছুড়েছে, যা দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, বুর্জ আল আরব এবং অন্যান্য ল্যান্ডমার্ক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এতে ৩ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছে, এবং পর্যটন ও ব্যবসায়িক হাবের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। 
 
৮) ট্রাম্প ইউক্রেনের কাছে ইরানের শাহেদ ড্রোন কীভাবে ঠেকানো যায় তার জন্য টেকনোলজি এবং টেক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চেয়েছে। কারণ ইউক্রেন রাশিয়ার শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়াই করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যেখানে রাশিয়া প্রচুর শাহেদ ব্যবহার করছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন যে আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে সাহায্য চেয়েছে, এবং ইউক্রেন সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে। এই টেকনোলজি আমেরিকাকে ইরানের ড্রোনের কার্যকারিতা কমাতে সাহায্য করবে।    

৯) রাশিয়ান ফরেন মিনিস্টার লাভরভ জানিয়েছেন যে রাশিয়া আমেরিকার এই যুদ্ধকে “ইম্পসিবল” করে তুলবে। এর অর্থ কেবল কূটনৈতিকভাবে নাকি রণক্ষেত্রে, তা স্পষ্ট নয়। লাভরভ বলেছেন রাশিয়া “সবকিছু করবে” যাতে আমেরিকা-ইসরায়েলের অপারেশন অসম্ভব হয়ে যায়, এবং এতে UNSC এবং UNGA-এর মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সাথে ডায়ালগ চালাবে। এটা সম্ভবত কূটনৈতিক চাপ, কিন্তু রাশিয়া ইরানকে সামরিক সাহায্য দিতে পারে।    

১০) মধ্যপ্রাচ্য ফের আগের অবস্থানে ফিরতে পারবে না। হয় শিয়া-সুন্নি একতাবদ্ধ হবে, নাহয় প্রত্যেকটা দেশ তাদের ভবশ্যতের জন্য তাদের ডিফেন্স খরচ ১০ গুণ বাড়াতে হবে। যদিও ইরানের ভবিষ্যত অনিশ্চিত, আমেরিকার গ্রাউন্ড এট্যাক , বা ইরানের ইন্টারনাল সিভিল ওয়ার, বা অস্থিরতা, ইরানকে সামলে নিতে বহু বছর লেগে যাবে। কিন্তু তাদের পাশে রাশিয়া আর চিন থাকবে। তাই ইরান টিকে যাবে। কিন্তু নো ম্যাটার হোয়াট এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আগামী বহু বছরের জন্য প্রভাবিত হবে।

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ










টিভিতে আজকের খেলা
টিভিতে আজকের খেলা
৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:০২:০৯


Follow Us