আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মধ্যে দ্বীপটি সফর করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। স্থানীয় সময় ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে পরিদর্শনে যান। এ সময় সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসী বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আছেন।

এদিকে ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতের আলোচনায় শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। এরই মধ্যে বৈঠক করে ভবিষ্যতের কৌশলের পরিকল্পনা তৈরি করছেন দুই দেশের কূটনীতিকরা।
বেশকিছু দিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। এ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। দেশটির সরকার বলেছে, এই অঞ্চলের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। তবে অন্যান্য অনেক বিষয় নিয়ে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির কারণে সৃষ্ট উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আর্কটিকে নিরাপত্তা বাড়াতে একাট্টা হয়েছে ডেনমার্ক ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।
আর্কটিকে নেটোর নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনের বিষয়ে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর আর্কটিকে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন। এদিনই ব্রাসেলস থেকে সরাসরি গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে যান তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আছেন গ্রিনল্যান্ডবাসী। তার কথায়, ‘আমরা একটি গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এখন একটি কূটনৈতিক-রাজনৈতিক পথ আছে যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একসঙ্গে অনুসরণ করবে। আজ তা প্রস্তুত করতে হবে।’
এদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নাটকীয়তা কমানো উচিত জানিয়ে ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতের আলোচনায় শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ডেনিশ ও মার্কিন কূটনীতিকরা ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছেন এবং ভবিষ্যতের কৌশলের একটি পরিকল্পনাও করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রোমে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় ইতালি। গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটোর কৌশল নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয় করতেও আশাবাদ জানান মেলোনি।
এদিকে চীনের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের মার্কিন আগ্রাসী পদক্ষেপ ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং ন্যাটোকে দুর্বল করতে পারে। ইউরোপ চাইলে ন্যাটোর বাইরে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে বলেও জানান তারা।


(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available