আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাডো জানিয়েছেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১৮৮ থেকে বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
২৪ জুন বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে উত্তর ভেনেজুয়েলা। এতে অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে পড়ে, অনেক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের পর থেকে একের পর এক অনুকম্পন (আফটারশক) অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের লা গুয়াইরা রাজ্য। সেখানে ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে আটকে পড়া এক শিশুকে প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; পরে তার মৃত্যু হয়। একই এলাকায় আরেকটি ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনজন জীবিত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও উদ্ধারকর্মীদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটে তাদের বের করে আনা সম্ভব হয়নি।
কারাকাসের ডোমিঙ্গো লুসিয়ানি হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক শিশুকে অভিভাবক ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ শুধু নিজের নামটুকু বলতে পারছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং লা গুয়াইরাকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করা হয়েছে। সংকটের সুযোগে স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটি (আইআরসি) পরিস্থিতিকে ‘চরম বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মেক্সিকো ইতোমধ্যে বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের পাশাপাশি ১৫০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া চীন, ভারত, ব্রাজিল ও ইরানও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ প্রাথমিকভাবে এক লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর শোক প্রকাশ করে ভেনেজুয়েলাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ১২৬ বছরের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূল ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ১৯৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেখানে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পে ২৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন।
তবে গত বুধবারের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবরের পর ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। এর কম্পন প্রতিবেশী কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা এবং উত্তর ব্রাজিলের কয়েকটি শহরেও অনুভূত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available