লাইফস্টাইল ডেস্ক: রমজান মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ মুহূর্ত। তবে ইফতারের টেবিলে অনেকেরই অনাহূত সঙ্গী হয়ে আসে বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর আর অস্বস্তিকর অ্যাসিড রিফ্লাক্স। সারাদিন রোজার পর হঠাৎ ভারী খাবার, বদলে যাওয়া ঘুমের রুটিন এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাড়তি চাপ পড়ে পেটে।
কেন রমজানে অ্যাসিডিটি বাড়ে?


বিশেষজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. শবনমের মতে, রোজা নিজে সমস্যা নয়, সমস্যা হয় খাবারের সময় ও পরিমাণে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে। সারাদিন খালি পেটে থাকার পর পাকস্থলী বেশি সংবেদনশীল ও অ্যাসিডিক হয়ে ওঠে। এ সময় একসঙ্গে বেশি খাবার খেলে বুকজ্বালা ও অস্বস্তি দেখা দেয়।

ডা. পৃথ্বী প্রিয়দর্শিনী শিবলিঙ্গাইয়ার মতে, ইফতার ও সেহরিতে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন এই তিনটি বিষয়ই হজমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রমেশ ভাস্করন মনে করিয়ে দেন, আমাদের ‘গাট’ বা অন্ত্রকে বলা হয় দ্বিতীয় মস্তিষ্ক। তাই শরীরের সংকেত বোঝা জরুরি।
ইফতারে কীভাবে রোজা ভাঙবেন?
অনেকেই আজানের সঙ্গে সঙ্গে ভারী খাবার খেয়ে ফেলেন এটাই সবচেয়ে বড় ভুল বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ১–৩টি খেজুর ও কুসুম গরম পানি দিয়ে রোজা ভাঙুন। এরপর ১০–২০ মিনিট বিরতি নিন। এতে পাকস্থলী ধীরে ধীরে খাবারের জন্য প্রস্তুত হয়। ভালোভাবে চিবোলে লালা বেশি তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে।
ইফতারে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চা–কফি, টমেটোভিত্তিক সস ও অতিরিক্ত টক ফল, ভারী ও চর্বিযুক্ত খাবার
ভালো বিকল্প হতে পারে
হালকা স্যুপ, গ্রিল বা বেক করা মাছ/মুরগি, সেদ্ধ সবজি, হোল গ্রেইন রুটি, পরিমিত ভাত
সেহরি বাদ দেবেন না
অনেকে ঘুমের কারণে সেহরি এড়িয়ে যান। এতে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার ফলে অ্যাসিড জমে গ্যাস্ট্রাইটিস ও রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ে।
সেহরিতে রাখুন
জটিল কার্বোহাইড্রেট: ওটস, ব্রাউন রাইস, আটার রুটি
প্রোটিন: ডিম, দই, ডাল, পনির
পর্যাপ্ত পানি
খাবারের পরের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসকদের পরামর্শ, সেহরির পর অন্তত ৪৫–৬০ মিনিট শোবেন না।
ইফতার বা সেহরির পর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা সোজা হয়ে থাকুন
ইফতারের পর হালকা হাঁটা উপকারী
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন
খাবারের সময় অতিরিক্ত পানি পান এড়িয়ে চলুন
কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমান
রমজানে ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, যা হজমে প্রভাব ফেলে। তাই ধীরে খাওয়া, সচেতনভাবে পানি পান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া সমানভাবে জরুরি।
রমজান সংযমের মাস। এই সংযম যদি খাবারের ক্ষেত্রেও বজায় রাখা যায়, তাহলে বুকজ্বালা নয়, শরীর ও মন দুটোই থাকবে হালকা ও প্রশান্ত। ইফতারে একটু ধীরতা, সেহরিতে সচেতনতা আর শরীরের সংকেত শোনার অভ্যাস এই ছোট পরিবর্তনেই পুরো মাস কাটতে পারে আরামদায়ক ও সুস্থভাবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available