রহস্যময় পোস্টের পর আত্মহত্যা আলভীর স্ত্রী ইকরার
বিনোদন ডেস্ক: ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা আত্মহত্যার আগে সামাজিকমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট দেন। সংক্ষিপ্ত সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বিগ এক্সপোজ অ্যালার্ট! গেট রেডি এভরিওয়ান!’ যা নিয়ে নেটদুনিয়ায় চলছে নানা আলোচনা।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় আত্মহত্যা করেন ইকরা। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগের দিনও সামাজিকমাধ্যমে একটি মন্তব্য করেন তিনি, যেখানে ছিল নিজেকে মুক্তি দেওয়ার ইঙ্গিত। এক পোস্টে আলভী লেখেন, ‘ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না।’ এর জবাবে ইকরা মন্তব্য করেন, ‘ভুল করলে মাফও মিলে না, মুক্তিও মেলে না। আমিন! আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম। আবার কষ্ট কেন!’ এই মন্তব্য এখন নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে ইকরা একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, কেউ একজন কারও পুরো জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার পর নিজের মাত্র একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে, কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ। তার এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।আত্মহত্যার সময় শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন জাহের আলভী। সামাজিকমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটি শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।এ ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান গণমাধ্যমে জানান, শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ইকরাকে উদ্ধার করেন। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আত্মহত্যার পেছনের কারণ ও সম্ভাব্য প্ররোচনার বিষয়টি আইনিভাবে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।