• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ২৩শে মাঘ ১৪৩২ রাত ১১:৫৪:৩২ (05-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
নেছারাবাদে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-শঙ্কায় ভোটারা, ৭৭টি ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ

নেছারাবাদে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-শঙ্কায় ভোটারা, ৭৭টি ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুর-২ আসন নেছারাবাদ, কাউখালী ও ভান্ডারী ৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের নির্বাচনীয় এলাকা নেছারাবাদ উপজেলায় সেখ হাসিনা সরকারের আমলে বেশকিছু ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট  সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাহী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপজেলার ৭৭টি ভোটকেন্দ্রগুলোতে যেকোনো অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার, সহিংসতা, ভোট কারচুপি কিংবা ভোটারদের ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা, কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রশাসনের।নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাচন অফিসার রুবায়েত হোসেন বলেন,”পিরোজপুর-২ আসনের অন্য দুইটি কাউখালী, ভান্ডারীয়ার উপজেলা চেয়ে নেছারাবাদ উপজেলায় সর্বোচ্চ ভোট ও ভোটকেন্দ্রে হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণও বেশি। ভোটার সংখ্যা বেশি থাকায় এ আসনটি জয় পরাজয় নির্ভর করে নেছারাবাদ উপজেলায় উপর। নেছারাবাদ উপজেলায় হালনাগাদ ১ লাখ ৯৮ হাজার ১ জন ভোটারের জন্য ৭৭ টি ভোট  কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, সিসি ক্যামেরা সহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সারঞ্জাম যথাসময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়”।পিরোজপুর নির্বাচন কমিশনার আব্দুব মান্নান বলেন,”পিরোজপুর-২ আসন, ৩টি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫ হাজার ৩০২ জন। ১  জন স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী ৭ জন, ভোটকেন্দ্র ১৬৬টি, এর মধ্যে নেছারাবাদ উপজেলায় ভোট ও ভোটকেন্দ্র সর্বাধিক হওয়া নির্বাচনীয় এলাকাটির কোন-কোন ভোট কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে”।নেছারাবাদ থানা তদন্ত ওসি রাধেশ্যম বলেন,”অতীতের নির্বাচনের থানার নথি, রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রভাবশালী মহলের তৎপরতা,আইন বহির্ভূত কার্যক্রম পরিস্থিতি ও থানা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলো যথেষ্ট দূরত্ব, দুর্গম এলাকা হওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এসব বিশ্লেষণ করে নেছারাবাদের ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৭৭টি ভোটকেন্দ্রগুলোকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়, সাধারণ-৩৭টি, ঝুঁকিপূর্ণ-২৬টি ও অতিঝুঁকিপূর্ণ-১৪টি ভোটকেন্দ্র।এর মধ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত ও উপজেলা প্রশাসন বলেন, বলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোসলেমিয়া মিয়া দাখিল মাদ্রাসা চামী, কাটাপিটানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুর হাওলা আমতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভরতকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ৫টি ভোটকেন্দ্রকে অতিগুরুত্বঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ভোটকেন্দ্রের নাম প্রকাশ করেছেন (নির্বাচনীয় ছক-১)। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ ও সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে।পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ নেছারাবাদের মিয়ার হাট বন্দরে সুধী সমাবেশে ভোটাদের উদ্যেশে বলেন, ”যেকোনো অপতৎপরতা দমনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো ট্রলারেন্স নীতি করেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ সহ প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।”সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে যৌথ বাহিনী মোতায়েনসহ কঠোর নজরদারির প্রশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান।নেছারাবাদ জামায়ের আমীর আবুল কালাম আজাদ বলেন, উড়িবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সঙ্গীতকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাস্তকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুর্গাকাঠিী এস, জি, এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়,৭১ নং বিশাল সরকারি প্রাথমিক, ডুবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ৫টি সহ অতিঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৪টি। অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এসব ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রসহ প্রিজাইড়িং অফিসার কক্ষে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।এলাকাবাসি জানান, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার আলোকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।একাধিক ভোটারদের মাঠ পর্যায়ে মন্তব্য, এ আসনে স্বতন্ত্রসহ ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করলেও নির্বাচনীয় মাঠে মূলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীর্ষ আহম্মেদ সোহেল মনজুর সুমন ও দাড়িপাল্লা প্রতীকের শামীম সাঈদী প্রার্থীর মধ্যে। শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষই ভোটারদের সমর্থন আদায় জোরালো প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। ফলে এ আসনে ভোটের ফলাফল নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে কৌতুহল ও উত্তেজনা।