সরকার বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে গেলে নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে: নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার যদি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, তাহলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।১০ জানুয়ারি শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।বৈঠকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেল প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।নাহিদ ইসলাম জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি বড় ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে। ইইউ চায় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হোক এবং ফল ঘোষণার পর সবাই যেন তা গ্রহণ করে, যাতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নির্বিঘ্ন হয়।তিনি বলেন, ইইউ প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা ও উদ্বেগ জানতে আগ্রহী এবং তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছে ইইউ এবং এনসিপিকেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।আসন সমঝোতা বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এনসিপির অবস্থান খুব শিগগিরই স্পষ্ট করা হবে। আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারির মধ্যে এ নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোট নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এবং গণভোটের পক্ষে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু হয়েছে। আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ রয়েছে এমন আত্মবিশ্বাস বা ঐকমত্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে নেই, এমনকি এনসিপির মধ্যেও নয়। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রোটোকল দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে অসমতা তৈরি করতে পারে।মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এনসিপিকে লক্ষ্য করে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমে সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।তিনি আরও জানান, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে বারবার অবহিত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে আপডেট দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে যেসব বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেগুলোও কমিশনকে জানানো হবে।ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে অনেক ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টাও হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় এটাই এনসিপির প্রত্যাশা।নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহিদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মাঠে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও পুরোপুরি আশঙ্কা কাটেনি। তবে এনসিপি মাঠে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ২১ তারিখের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার করবে।