• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২০শে ফাল্গুন ১৪৩২ রাত ০৯:৪৬:৫২ (04-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
ঈশ্বরদীতে মাচানে টমেটো চাষে আসলামের সাফল্য

ঈশ্বরদীতে মাচানে টমেটো চাষে আসলামের সাফল্য

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: বাঁশের খুঁটি ও পাটকাঠি দিয়ে তৈরি মাচানে লতিয়ে উঠেছে সবুজ টমেটো গাছ। সেই সবুজ পাতার ফাঁকে লাল টুকটুকে পাকা টমেটোর সমারোহ যেন সাফল্যের বার্তা দিচ্ছে। ঘামে ভেজা শরীর নিয়েও হাসিমুখে মাঠে কাজ করছেন কৃষক আসলাম। চলতি রমজান মাসে বাজারদর ভালো থাকায় বাড়তি লাভের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।ঈশ্বরদী উপজেলার বাঘহাছলা মাঠে মাচান পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করা কৃষক আসলাম জানান, বছরজুড়ে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেন। টমেটো, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ধানসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে মাচান পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেছেন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, চারা রোপণ থেকে মাড়াই পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। মাচান পদ্ধতিতে চাষ করলে টমেটো পচে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং অতিরিক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। ফলে ফলনও ভালো হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ টমেটোর দাম প্রায় ১,৫০০ টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৬০০ মণ টমেটো উৎপাদন সম্ভব। সে হিসেবে বিঘাপ্রতি প্রায় ৯ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন তিনি।আসলাম আরও জানান, ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় টমেটো চাষ হয়। দেশীয় জাতের পাশাপাশি বিভিন্ন হাইব্রিড জাত যেমন বিজলি-১১, সুলতান সলেমান, মিন্টু সুপার, ভিএল, হিটলার, মেটাল ও রতন উল্লেখযোগ্য। উচ্চ ফলন ও স্বাদের কারণে তিনি এ বছর বিজলি-১১ ও সুলতান সলেমান জাতের টমেটো চাষ করেছেন।এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে আসলাম বলেন, ‘আমরা সারা বছর কৃষিকাজ করি। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাই না। যোগাযোগ করলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেন। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আধুনিক ও উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষ আরও বাড়ানো সম্ভব, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।’অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ কৃষকই মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করছেন। এতে সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সহজ হয় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়। এ বছর প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।তবে কৃষকদের প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে অধিকাংশ কৃষকের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। কেউ সহযোগিতা চাইলে আমরা তা প্রদান করি।’