• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:১১:২৯ (08-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি পড়তে না পারলে বেতন বন্ধ

জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি পড়তে না পারলে বেতন বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি পড়া এবং গণিতে মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সাবলীলভাবে বাংলা ও ইংরেজি পড়তে পারা এবং গণিতের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগে দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।৮ মে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনে প্রকাশিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি দেশের সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, দেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তাদের বড় একটি অংশ মৌলিক শিখন দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকভাবে বাংলা পড়তে পারে না। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার হার আরও বেশি।এদিকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলোর উল্লেখযোগ্য সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, শিক্ষকতার মান এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত ‘ফ্রম এভিডেন্স টু অ্যাকশন: স্ট্রেনদেনিং লার্নিং, ইনক্লুশন অ্যান্ড ইনোভেশন ইন ক্লাসরুম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউনিসেফ।গবেষণায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির মৌলিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে গণিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) বাস্তবায়নে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আগের কর্মসূচিতেও ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। এত বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত ফল না আসায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষক সিলেবাস শেষ করার চাপে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। এছাড়া দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষক পুরো শিক্ষাবর্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণ ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ পান না। ঘন ঘন পাঠ্যক্রম পরিবর্তনও শিক্ষার মানোন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মত দিয়েছেন প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক।২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের ১৪২টি বিদ্যালয়ের ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং ৮০০-এর বেশি শিক্ষক অংশ নেন। গবেষণাটি পরিচালনা করে ইউনিসেফ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবিসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।