• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ০১:১২:০৫ (09-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন

তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ধারণা করা হলেও ফরেনসিক পরীক্ষায় নিহতদের দেহ এবং তারা যে তরমুজ খেয়েছিলেন, তার নমুনায় ইঁদুর মারার বিষাক্ত রাসায়নিক ‘জিঙ্ক ফসফাইট’র উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সবুজাভ আভা দেখা গেছে, যা বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী আবদুল্লাহ দোকাদিয়া ও তার স্ত্রী ৩৫ বছর বয়সী নাসরিন নিজেদের বাসায় আত্মীয়দের জন্য এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তাদের দুই মেয়ে—১৩ বছর বয়সী জয়নাব এবং ১৬ বছর বয়সী আয়েশাও উপস্থিত ছিল।নৈশভোজে অতিথিদের জন্য খাসির পোলাও রান্না করা হয়। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত প্রায় ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। এরপর ভোর ৫টার দিকে সবার তীব্র বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারের চার সদস্যই মারা যান।ফরেনসিক পরীক্ষায় নিহতদের শরীরে জিঙ্ক ফসফাইটের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এটি সাধারণত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পরিবারের খাওয়া তরমুজের নমুনাতেও একই রাসায়নিক পাওয়া গেছে।তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, বিষাক্ত পদার্থটি দুর্ঘটনাবশত তরমুজে মিশেছিল, নাকি পরিকল্পিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে তরমুজের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছিল।প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় নিহতদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও অন্ত্রসহ কয়েকটি অঙ্গ সবুজ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা বিষক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।এদিকে আবদুল্লাহ দোকাদিয়ার শরীরে ‘মরফিন’-এর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। এটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ, যা সাধারণত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হয়। তার শরীরে এই ওষুধ কীভাবে এলো, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঘটনার পর পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। ওই রাতে নৈশভোজে অংশ নেওয়া অতিথিদের জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অতিথিরা কেবল পোলাও খেয়েছিলেন, তরমুজ খাননি। তাদের সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন।সূত্র: এনডিটিভি।