পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: পার্বত্য মন্ত্রী
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংস করে বা পাহাড় কেটে কোনো ধরনের রিসোর্ট কিংবা পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সরকার সমর্থন করে না। বরং পরিবেশ রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব বা ‘ইকো-ট্যুরিজম’ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পরিষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন অনুযায়ী ইতোমধ্যে অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে, তবে যেখানে একান্ত জরুরি, সেখানে উন্নয়ন কাজ চলবে।তিনি সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা কাজের গতি ব্যাহত করে। তাই প্রতিটি উন্নয়ন কার্যক্রমে পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা আবশ্যক।প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, উন্নয়নের নামে শুধু প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থ অপচয়ের সুযোগ আর থাকবে না। যেখানে প্রকৃত প্রয়োজন নেই, সেখানে কোনো প্রকল্প নেওয়া যাবে না। প্রতিটি কাজের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের কাজের মাধ্যমেই জেলার উন্নয়নের চিত্র প্রতিফলিত হয়। তাই সেবার নামে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা পাহাড়ি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও দুর্গমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, সমতলের তুলনায় পাহাড়ে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় অনেক বেশি। ফলে দরপত্রের (টেন্ডার) সিডিউল রেট সমতলের মতো নির্ধারণ করা যৌক্তিক নয়। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পাশাপাশি কাপ্তাই লেকের মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, ইকো-ট্যুরিজম, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে মন্ত্রীর বিশেষ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা।কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিমসহ পরিষদের সদস্যবৃন্দ।