• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৬ই চৈত্র ১৪৩২ দুপুর ০১:৩২:৫০ (30-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
পঞ্চগড়ে মাদরাসা অধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, লাঠিপেটায় আহত ৬

পঞ্চগড়ে মাদরাসা অধ্যক্ষকে যোগদানে বাধা, লাঠিপেটায় আহত ৬

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় মাদরাসার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার যোগদান করতে গেলে উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে বেধরক লাঠিপেটার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।২৯ মার্চ রোববার দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সামনে পঞ্চগড়-আটোয়ারী আঞ্চলিক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।জানা যায়, আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত বছরের ২৭ মে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিচালনা কমিটি। পরে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের নিয়ম থাকলেও মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গত এক বছরেও তা প্রত্যাহার করেননি।এরই মাঝে মাদরাসার এডহক কমিটি ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হাকিম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দ্বায়িত্ব দেন। যদিও এর আগে মাদরাসা বোর্ডের আপিল এন্ড আরবিটেশন সভায় আব্দুল হাকিম সরকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়।গত ৮ মার্চ মাদরাসা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমাদের এক চিঠিতে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকারকে স্বপদে বহাল করা হয়। একই সাথে প্রস্তাবিত মাদরাসার পরিচালনা কমিটি বাতিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেতন বিলে সাক্ষরের অনুমোদন দেয়া হয়। পরে জেলা আদালতের জিপির মতামত নিয়ে ২৯ মার্চ রোববার সকালে মাদরাসায় যোগদান করতে গেলে মারধরের শিকার হন অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার।সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন সরকার বলেন, ‘আমি মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা পেয়ে রোববার সকালে যোগদান করতে যাই। এসময় আমাকে বাধা দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রহমান উপস্থিতিতে তার ছেলে নাফিউর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা আমার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছে যোগদানের জন্য। পরে আমি চলে আসি। দুপুরে আমাকে ধাওয়া করে বেধরক লাঠিপেটা করে। এসময় আমি ও আমার স্ত্রীসহ ৬ জন আহত হয়েছি।’ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, ‘আমি বর্তমান কমিটির নির্দেশনায় আইন মেনে দ্বায়িত্বে আছি। অধ্যক্ষ নানা অনিয়মে জড়িত হয়ে বরখাস্ত হন। তিনি আমাকে বরখাস্ত করে রেখেছিলেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। আমার চেয়ে যারা সিনিয়র তারা দ্বায়িত্ব নিতে চাননি। পরে আমি দ্বায়িত্ব পাই।’উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, ‘এই মাদরাসা আমার নানার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা কখনো কোনো প্রভাব খাটাইনি। মাদরাসার অধ্যক্ষ বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত। তিনি বরখাস্ত ছিলেন। এলাকাবাসী তাকে চেনে, জানে। তাকে নিয়ে শিক্ষকেরা মিটিং করেছে। কেউ তাকে মেনে নিচ্ছে না।’আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেয়া হবে।’এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, ‘আমি একটি চিঠি পেয়েছি, যেটাতে সভাপতির স্থলে অধ্যক্ষকে বহাল বেতনের শিটে আমাকে সাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা আদালতের জিপির মতামত নেয়া হয়। তিনি আজকে যোগদান করতে গেলে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা স্থানীয় বিষয়। তবে কোনো অভিযোগ হলে আমি ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো।’