বেনাপোল বন্দরে ঘোষণা বহির্ভূত শাড়ি-থ্রিপিস ও প্রসাধনী জব্দ
যশোর প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণা বহির্ভূত প্রিমিয়াম কোয়ালিটির শাড়ি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।১২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট যৌথবাহিনীর অভিযানে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স ভারত থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাকে ১০০ প্যাকেজ বেকিং পাউডার আমদানির ঘোষণা দেয়। যার মোট গ্রোস ওয়েট ৫ হাজার ১৫০ কেজি। ঘোষণা মতে পণ্যের ক্রয়মূল্য ২ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার। চালানটি ১২ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।পণ্যচালানটির কাস্টমস ও বন্দর থেকে ছাড়করণের দায়িত্বে ছিল মেসার্স হুদা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান। তবে পণ্যটি বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে আনলোড করার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পরীক্ষণ করলে দেখা যায়, ঘোষিত বেকিং পাউডারের পরিবর্তে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে উচ্চ শুল্কের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়েছে।পরীক্ষণে ঘোষণাবিহীন যে পণ্যগুলো পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে- প্রিমিয়াম কোয়ালিটির শাড়ি ৭ হাজার পিস, থ্রি-পিস ৬ হাজার পিস, টু-পিস ৩০০টি, বেবি ওয়্যার ৩০০ কেজি, ওড়না ৫৫০ পিস, ফেস ওয়াশ ৬০০ কেজি, বডি লোশন ১০০ কেজি এবং বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ৬০০ কেজি। জব্দ এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সূত্র।বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড ইনচার্জ নূর আমিন জানান, গত ৪ মার্চ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করা একই সিএন্ডএফ এজেন্টের আরেকটি পণ্যচালানের ১৩০ প্যাকেজ পণ্য তাদের ৩৭ নম্বর শেডে রক্ষিত রয়েছে। যার আমদানিকারক ডিডিএস এন্টারপ্রাইজ। মেনিফেস্ট নম্বর ১৪০৮৯, ওজন ৬ হাজার ৬৩০ কেজি এবং আমদানিকৃত পণ্যের ক্রয়মূল্য ৩ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার। চালানটির ছাড়করণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং যে কোনো সময় খালাস হওয়ার কথা ছিল।এরই মধ্যে বেনাপোল কাস্টমসসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান শুরু হলে ৩৭ নম্বর শেডে রক্ষিত নতুন চালানটি পরীক্ষা করে ঘোষণা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়।স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, তাদের কাছে খবর ছিল, ঘোষণা অনুযায়ী পুরাতন আমদানি ও খালাস কার্যক্রম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বেকিং পাউডারের পণ্য চালানটি বন্দরে রেখে তারই আদলে ঘোষণা বহির্ভূত নতুন চালানটি বন্দর থেকে খালাস করে নেওয়ার পাঁয়তারা করেছিল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি।বেনাপোল কাস্টম হাউসের আভিযানিক দলনেতা ও রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, উদ্ধার হওয়ার পণ্য জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।