অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি রাশেদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রমের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খান।২৪ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি তোলেন।পোস্টে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, গণভোটের ক্যাম্পেইনের জন্য ‘স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ডিসক্রিমিনেশন (এসএডি)’ নামের সংগঠনকে বড় অঙ্কের বাজেট দেওয়া হয়েছিল, যা নির্বাচন কমিশনের বাইরে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আলাদাভাবে অনুমোদন করে। তার দাবি, এ অর্থ অনুমোদন ও ব্যয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।তিনি আরও দাবি করেন, এই বাজেট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং পরে নেতৃত্ব পর্যায়ে বিভাজন দেখা দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই দ্বন্দ্বের জেরে কমিটি স্থগিত করা হয় এবং কিছু শীর্ষ নেতা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।রাশেদ খান দাবি করেন, এই ঘটনাগুলোর দায় কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, বরং সরকারের উচ্চপর্যায়েরও এর দায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ১৬ বছরের আগের আওয়ামী লীগ সরকারের অনিয়মের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়েও শ্বেতপত্র প্রকাশের আহ্বান জানান।এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের মধ্যে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে। তাই স্বচ্ছ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি সামনে আসছে।