• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৮ই চৈত্র ১৪৩২ রাত ১১:৫৫:৩১ (01-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
ঈশ্বরদীতে স্ট্রবেরি চাষে রকিবুলের সাফল্য

ঈশ্বরদীতে স্ট্রবেরি চাষে রকিবুলের সাফল্য

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি স্ট্রবেরি চাষ করে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন স্থানীয় কৃষক মো. রকিবুল ইসলাম। এক সময় শখের বসে শুরু করা এই চাষ এখন তার জন্য হয়ে উঠেছে লাভজনক উদ্যোগ, যা আশপাশের কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ধান, গম, মসুর, রসুন ও পেঁয়াজের চাষ দীর্ঘদিনের চিত্র। তবে এবার সেই মাঠের একাংশে জালের বেড়া দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে স্ট্রবেরির আবাদ করেছেন রকিবুল। সবুজ গাছের পাতার ফাঁকে টকটকে লাল স্ট্রবেরির উপস্থিতি যেন নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।স্থানীয়ভাবে ভাড়ইমারী, জগন্নাথপুর, মানিকনগর পূর্ব ও পশ্চিমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চমূল্যের এই ফল থেকে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকেরা ধীরে ধীরে প্রচলিত ফসল ছেড়ে স্ট্রবেরি চাষে ঝুঁকছেন।চাষিরা জানান, ভাদ্র-আশ্বিন মাসে চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার চারা লাগে, যার প্রতিটির দাম ২৫-৩০ টাকা। সার, সেচ ও কীটনাশকসহ মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অনুকূল আবহাওয়ায় এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি সম্ভব, যেখানে লাভ হতে পারে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা।কৃষক রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রতি বছরই স্ট্রবেরি চাষ করি। এ বছর দুই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। খরচ তুলনায় লাভ অনেক বেশি হওয়ায় এই চাষে আগ্রহ বেড়েছে।’স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার স্ট্রবেরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। বড় আকার, সুগন্ধ ও স্বাদের কারণে এর চাহিদাও বেশ ভালো। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ১৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৫০০-৬০০ টাকায় নেমে এসেছে।তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জ। স্ট্রবেরি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ ও দ্রুত বাজারজাতকরণ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক হিমাগার সুবিধার অভাবও কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, দীর্ঘ সময় হিমায়িত রাখলে ফলের গুণগত মান কমে যেতে পারে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে ১৮ মেট্রিক টন। আগামী মৌসুমে আবাদ বাড়িয়ে ২ হেক্টরে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন বলেন, ‘স্ট্রবেরি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।’