• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৩০শে মাঘ ১৪৩২ দুপুর ০২:৩২:৩১ (12-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
মাত্র ১২০ দিনে কোরআনের হাফেজ হলেন আজহার

মাত্র ১২০ দিনে কোরআনের হাফেজ হলেন আজহার

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মাত্র ১২০ দিনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হেফজ করে ব্যতিক্রমী কৃতিত্ব অর্জন করেছে ১১ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল আজহার। মীরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া ইউনুছিয়া ইসলামিয়া নয়দুয়ারিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে সে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।আব্দুল্লাহ আল আজহার ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা।সে মৃত নুর জামাল ও বিবি হাজেরার একমাত্র সন্তান। শৈশবেই পিতৃহারা হওয়ার পর মীরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় কমলদহ এলাকায় মামা আকতার হোসেনের তত্ত্বাবধানে তার বেড়ে ওঠা।গতকাল মাদ্রাসায় আয়োজিত সবক প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠানে অতিথিরা আজহারের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।আজহারের মা বিবি হাজেরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল হাফেজের মা হওয়ার। আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আজহার একজন যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে উঠবে।”মামা আকতার হোসেন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আজহার আমার তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছে। তার এই সাফল্যে আমি গর্বিত। তাকে একজন আলেম হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।”মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, “আমার ১৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এত অল্প সময়ে হেফজ সম্পন্ন করা ছাত্র আর পাইনি। আজহার অত্যন্ত মেধাবী।”তিনি জানান, যেখানে অন্য ছাত্ররা দিনে এক থেকে দেড় পৃষ্ঠা পড়া শোনাত, সেখানে আজহার নিয়মিত দিনে পাঁচ পৃষ্ঠা করে পড়া শোনাত। উল্লেখ্য, আজহার এর আগে নূরানী বোর্ড পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাফর উল্লাহ নিজামী বলেন, “আজহারের পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় তার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহন করেছে।”তিনি আরও জানান, আজহার ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হেফজ বিভাগে ভর্তি হয়ে মাদ্রাসার বন্ধের দিন বাদ দিয়ে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি মাত্র ১২০ দিনে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করে। “আমার ২৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এমন মেধাবী ছাত্র পাইনি,” যোগ করেন তিনি।অল্প বয়সে এত স্বল্প সময়ে কোরআনে হাফেজ হওয়ার এই অনন্য অর্জন মীরসরাইসহ সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে।