বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো তেলের দাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে নজর এখন বিশ্বজুড়ে। তবে এই বৈঠকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা।১৪ মে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠককে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেলের দামেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।বিশ্লেষকদের ধারণা, বাণিজ্য ইস্যুর পাশাপাশি ট্রাম্প চীনকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের চুক্তিতে রাজি করাতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাতে পারেন। তবে দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র ইরানের ওপর শি চিনপিং কতটা চাপ প্রয়োগ করবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ২৬ সেন্ট বা ০.২৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারস ৩২ সেন্ট বা ০.৩২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০১.৩৪ ডলারে।এর আগের দিন বুধবার উভয় তেলের বেঞ্চমার্কের দাম কমেছিল। উচ্চ তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে এবং এর ফলে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে এমন উদ্বেগ থেকেই বাজারে দরপতন ঘটে। ওইদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি এবং ডব্লিউটিআই ১ ডলারের বেশি কমে যায়।এদিকে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকের আগে ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। আলোচ্যসূচিতে ছিল দুই দেশের ভঙ্গুর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি, ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির মতো স্পর্শকাতর বিষয়।বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজি জানিয়েছে, তেলের বাজার বর্তমানে অপেক্ষা করো এবং দেখো অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন আলোচনায় বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির আশা বাজারে কিছুটা বেশি হয়ে যেতে পারে।ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে চীনের সহায়তা প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না, তবুও সংঘাত নিরসনে শি চিনপিংয়ের সহায়তা চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বিকল্প খুব সীমিত থাকবে। সেক্ষেত্রে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অঞ্চল থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির জন্য ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন চুক্তিও করেছে তেহরান।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর বুধবার ইরাকের ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি চীনা সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল মাত্র তৃতীয় তেলবাহী জাহাজ, যা প্রণালিটি পার হতে সক্ষম হয়েছে।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ তেল উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং দ্রুতগতিতে বৈশ্বিক তেলের মজুত কমে যাচ্ছে। সংস্থাটির মতে, এ বছর বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হতে পারে, যা আগের উদ্বৃত্ত সরবরাহের পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।