আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে পারে, এমন আশঙ্কায় ইরানে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি চান, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে যতটা সম্ভব ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। এই পদক্ষেপ কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে দ্রুত শান্তি কার্যক্রম শুরু করলে ইরানের সামরিক শিল্প ধ্বংসের সুযোগ কমে যাবে।


নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২৫ মার্চ বুধবার নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ইরানের অস্ত্র শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংস করা যায়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা যুদ্ধ-সমাপ্তি পরিকল্পনা। ইসরায়েল মনে করছে, ওই পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক সক্ষমতা যথেষ্টভাবে কমানোর বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে এই পরিকল্পনার উল্লেখ দেখা গেছে, তবে হোয়াইট হাউস এটি নিশ্চিত করেনি। তিনি বলেন, ‘কিছু তথ্য সত্য, তবে সব সঠিক নয়।’
গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার নেতানিয়াহু সামরিক সদর দপ্তরে এক বৈঠকে এই নির্দেশ দেন। সেখানে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাকে ব্রিফ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর তড়িঘড়ির মূল কারণ হলো, যুদ্ধের সমাপ্তি সম্পূর্ণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। ফলে যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণে নেতানিয়াহুর প্রভাব সীমিত।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ আরও অন্তত এক সপ্তাহ হামলা চালানোর পক্ষে, কেউ দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন। প্রথম সপ্তাহেই সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য এসেছে বলে তিনজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এরপর আন্তর্জাতিক চাপ, আর্থিক ব্যয় এবং জনগণের মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগ বেড়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এতে ১,৩৪০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন। ইরানও পুরো অঞ্চলে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বিমান চলাচল ব্যাহত করেছে। সোমবার ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available