আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোতে বিভক্তির গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে, যেখানে ঐক্য ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
৭ মে বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনির সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক হয়। সেখানে পারস্পরিক আস্থা, শান্ত পরিবেশ ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে মতবিরোধ ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি একই ধরনের মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, লন্ডনভিত্তিক একটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কিছু সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের কথা বিবেচনা করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে আইআরজিসির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথ নিয়ন্ত্রণে সামরিক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক সিনা তুসি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার কথা বললেও স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো চুক্তি ইরান গ্রহণ করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভবিষ্যতে সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে সীমিত উত্তেজনা ও পর্যায়ক্রমিক কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available