• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৬শে বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ০৯:৪৫:৪৩ (09-May-2026)
  • - ৩৩° সে:

তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবেশ মন্ত্রীর অংশগ্রহণ

৯ মে ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৪২:২৪

তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবেশ মন্ত্রীর অংশগ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তুরস্কের হাতায় মিউজিয়াম হোটেলে আন্তর্জাতিক এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিভিন্ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রীরা অংশ নেন।

৮-৯ মে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থিতিস্থাপক ও টেকসই শহর নির্মাণের উপর আলোকপাত করা হয়।

Ad
Ad

উদ্বোধনী অধিবেশনে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী জনাব মুরাত কুরুম আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় দুর্যোগ-সহনশীল ও টেকসই নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

Ad

বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রী জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু তুরস্কের মন্ত্রী জনাব মুরাত কুরুমের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে তুরস্কের মন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে বর্ণনা করে সিওপি৩১ এবং প্রস্তাবিত ‘হাতে ঘোষণা’ বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত ও সুপারিশ জানতে চান।

মন্ত্রী মুরাত কুরুম আসন্ন সিওপি৩১ সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান এবং পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা উদ্যোগে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে তুরস্কের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি তুরস্কে বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশের জনগণ তুরস্ককে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.৩৫ শতাংশ হলেও, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, বন উজাড়, দ্রুত নগরায়ন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশের পরিবেশ ও জীবন-জীবিকার জন্য ক্রমাগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে জলবায়ু-সম্পর্কিত গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা পায়নি।

মিন্টু জানান, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জলবায়ু অর্থায়নের দাবিতে বাংলাদেশ সিওপি৩১-এ একটি বিশেষ এজেন্ডা উপস্থাপন করবে। তিনি ঘোষণা করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অগ্রাধিকার এবং সহায়তার প্রয়োজনীয়তা কার্যকরভাবে তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ সিওপি৩১-এর আগেই ফোকাল পারসন নিয়োগ করবে।

মন্ত্রী উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বৃহত্তর দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যায্য ও সময়োপযোগী জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান।

আব্দুল আওয়াল মিন্টু গাম্বিয়ার মন্ত্রী রোহে জন মানজাং, সিরিয়ার মন্ত্রী মোহাম্মদ আনজরানি, তুরস্কে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হামবার্তো লোপেজ এবং ইলব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার আইয়ুপ কারাহানের সাথে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা চলাকালীন এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থার জন্য অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদিও স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখে, তবুও তারাই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি শিকার। তিনি বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য কার্যকর জলবায়ু অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং দ্রুত তহবিল বিতরণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কারিগরি সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনের পাশাপাশি, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে। মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রী আলী শরীফ মালদ্বীপে ৫০ লক্ষ বৃক্ষরোপণের একটি পরিকল্পিত উদ্যোগে, বিশেষ করে নার্সারি উন্নয়ন, চারা উৎপাদন এবং কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছেন।

আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি মালদ্বীপের পরিবেশ মন্ত্রীকে বাংলাদেশের নার্সারি কার্যক্রম, চারা উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বৃক্ষরোপণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পর্যবেক্ষণের জন্য দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানান।

কর্মসূচির শেষ দিনে, কসোভোর পরিবেশ, স্থানিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো মন্ত্রী ফিতোরে পাকোলি বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে কসোভো কপ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বাংলাদেশের সমর্থন চায় এবং বাংলাদেশ আশ্বাস প্রদান করে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ












Follow Us