• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৩শে মাঘ ১৪৩২ রাত ১২:০১:২২ (06-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে : সেনাসদর

নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে : সেনাসদর

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাসদর। আগের নির্বাচনে যেখানে সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন, সেখানে এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত ও আস্থা ফিরিয়ে আনতেই বাড়তি এই মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে, যা ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।নির্বাচনে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, এর আগের নির্বাচনে কত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো, আগের চেয়ে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এবার এক লাখ সদস্য কেন মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনে আমাদের সদস্য মোতায়েনের পার্থক্য হচ্ছে, এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতে এই অনুমতি ছিলো না। আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী জায়গায় অবস্থান করেছি। এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যদের রেখে বাকি সব সেনাসদস্যকে নিয়োগ করেছেন সুষ্ঠু ইলেকশন করার জন্য।তিনি বলেন, যে কারণে আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের যে প্রয়োজনীয় যানবাহন অপ্রতুল, আমরা অসামারিক প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছি যেন তারা রিকুইজিশন করে আমাদের গাড়ি দেয়। সেটাও যখন দিতে পারছে না তখন আমরা গাড়ি হায়ার করে হলেও সেনাসদস্যরা যাতে টহল দিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেনাসদস্যরা প্রস্তুত এটার জন্য, অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দিনরাত টহল পরিচালনা করছেন, শুধুমাত্র ভোটারদের আস্থার জায়গাটা ফিরিয়ে আনার জন্য। এটা জোরদার করা হয়েছে গত ২০ জানুয়ারি থেকে।ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনের আগেই কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর যে কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গত ১০ জানুয়ারি আমাদের যে মোতায়েন সংখ্যা ছিল সেটি ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে আমরা ৫০ হাজারে উন্নীত করেছি। পরে ২০ জানুয়ারি ১ লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।‘এর পাশাপাশি নৌবাহিনী ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ জন সেনা মোতায়েন করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের সারাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬২টি জেলায় ৪১১ টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে সর্বমোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত টহল যৌথ অভিযান এবং আমরা চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম আমরা চলমান রেখেছি। বিজিবি পুলিশ আনসারের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের যে দৃশ্যমান প্রভাব সেটা কিন্তু আপনারা (সাংবাদিক) দেখতে পাচ্ছেন একদিকে অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা যেমন অনেক গুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।’তিনি বলেন, গত ২০ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ এই ১৪ দিনে আমরা প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছি। যার অধিকাংশই বিদেশি পিস্তল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র, ২ লাখ ৯১ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।নির্বাচনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি টেকনোলজি ব্যবহার বা প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে, সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে। পুলিশের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ড্রোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার করবে, যাতে দ্রুততম সময়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।নির্বাচনে কোনো দল বা কোনো গোষ্ঠী যদি ব্যালট দখল করতে যায় অথবা ভোট কেন্দ্র দখল করতে যায়, সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হবে? পাশাপাশি গত জুলাই বিপ্লবে এখনো পর্যন্ত ১ হাজার ৩৩১টি অস্ত্র উধাও, পুলিশ বলছে তাদের সব অস্ত্র তারা পায়নি, এই অস্ত্রগুলো আগামী নির্বাচনের জন্য ঝুঁকি হিসেবে আপনারা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, আমরা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত আছি। এ কারণেই এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় আমরা সর্বাধিক সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করেছি যাতে অতি দ্রুততম সময়ে এ ধরনের কোনো ইনসিডেন্ট আসলে সেটা আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারি। এখনো খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলোকে উদ্ধার করার জন্য সার্বক্ষণিক আমাদের অভিযান জারি রেখেছি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব ও সিভিল প্রশাসন থেকে কবে সেনাবাহিনী আবার ক্যান্টনমেন্টে চলে যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সোশ্যাল মিডিয়া শুধু না, এর সঙ্গে যদি আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যোগ করে দিই তাহলে তো এখন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে, যেকোনো একজনের চেহারা শুধু থাকলেই হলো যেকোন কিছু তৈরি করা সম্ভব। সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্যই আমি আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে সাহায্য চেয়েছি যে আপনারা যদি তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো একটা মিথ্যা বা অপতথ্যের প্রচারের আগেই আপনারা যদি বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যনির্ভর একটা সংবাদ প্রকাশ করেন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় যেটা, সেখানে যদি এটা নিয়ে আসা যায় তাহলে এটা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, পাশাপাশি আমরা যেটা চেষ্টা করছি যে, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে যে সমন্বয় সেল তৈরি করা হয়েছে। আমরা কতদিন থাকবো নির্বাচনের পরে, এটা একদমই হচ্ছে সরকারের সিদ্ধান্ত। আজকে যে মোতায়েন হয়েছি এটা যেমন সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা মোতায়েন হয়েছি, ঠিক একইভাবে আমরা কবে আমাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে আমরা ফিরে যাব সেটাও সরকারের সিদ্ধান্ত।