• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১২ই মাঘ ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৭:২৭:২৯ (25-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:

নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পুনর্বাসনের অভিযোগ

২৫ জানুয়ারী ২০২৬ দুপুর ০২:৫৭:৪১

নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পুনর্বাসনের অভিযোগ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পূনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন বর্ধিত সাদা দলের আত্মপ্রকাশ ও নোবিপ্রবি প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে এই পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠে।

Ad

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদে সক্রিয় থাকা শিক্ষকবৃন্দ জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের নতুন সংগঠন বর্ধিত সাদা দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় হতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের পতনের পর দীর্ঘদিন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নতুন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তাঁরা।

Ad
Ad

গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার নোবিপ্রবিতে বর্ধিত সাদা দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। ওই দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দিতে দেখা যায় বর্ধিত সাদা দলের নেতৃবৃন্দদের। পরবর্তীতে বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সংগঠনটি। অভিযোগ উঠে বর্ধিত সাদা দলের অধিকাংশ সদস্যই আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আওয়ামীপন্থী নোবিপ্রবি নীল দল প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতি নির্বাচন-২০২৪ এ নির্বাচিত হওয়া ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হুমায়রা সুলতানা। নীল দলের ২০২৩-২৪ সামাজিক বিজ্ঞান ও কলা অনুষদের সদস্য ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জনি মিয়া, রুবায়েন আসিফ রাতুল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম আলম। একই কমিটির শিক্ষাবিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটসমূহ এর সদস্য ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল ভূঁইয়া। এছাড়া নীলদলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দিপু কুমার, মো. এনায়েত হোসেন ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাদ্দাম হোসেন।

বর্ধিত সাদা দলে আওয়ামীপন্থী আরেক সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সক্রিয় শিক্ষক নেতাদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মত। তারমধ্যে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবোধ কুমার সরকার ও বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মুরাদ হোসাইন। বর্তমানে আওয়ামীপন্থীদের সংগঠন ঘুরে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন বর্ধিত সাদা দলে যোগ দিয়েছেন এই শিক্ষক নেতারা।

এদিকে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নোবিপ্রবি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অভিযোগ উঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উক্ত কর্মসূচিতে বিগত সময়ে আওয়ামীপন্থী অনেক শিক্ষক নেতা অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নোবিপ্রবি নীলদলের কার্যকরী পরিষদ (২০২৩-২৪)-এর সভাপতি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রহমান। একই কমিটির উপদেষ্টা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকি ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাবেদ হোসেন। উক্ত কমিটির ব্যবসায় অনুষদে সদস্য হিসেবে ছিলেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এছাড়া নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি-২০২৪ এ নীলদল প্যানেল থেকে নির্বাচিত শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক এবং বিজ্ঞান অনুষদে নীলদলের সদস্য পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান।

আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পুনর্বাসনের দুটি ঘটনায় ক্যাম্পাস জুড়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ যাদের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার রাজত্ব টিকিয়ে রেখেছে সেই শিক্ষক নেতারা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এখন নিজেদের চেহারা পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন। এসব শিক্ষক নিজ নিজ বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন ও সেসব সংগঠনে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলার সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমানে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত বনি আমিন বলেন, আমরা যখন ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদী এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিচারের দাবি তুলেছিলাম তখন আজকের যারা বর্ধিত সাদা দলের রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে সেসব শিক্ষকরাই শিক্ষক পরিষদ নামে একটা প্ল্যাটফর্মে এসে বিভিন্ন ফ্যাসিবাদী দোসর, ছাত্র নির্যাতনকরী ও দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের আশ্রয় দিয়েছে। সেই শিক্ষক পরিষদ ব্যানারটি এখন বর্ধিত সাদা দলে রূপদান করেছে। সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি আওয়ামী আমলে যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলো, শিক্ষার্থীদের যারা নিপীড়ন চালিয়েছে সেসমস্ত শিক্ষকদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে এটা খুবই দুঃখজনক, শিক্ষার্থীরা এসব মেনে নিবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতাদের অংশগ্রহনে ক্ষোভ জানিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নোবিপ্রবির সমন্বয়ক ও বর্তমানে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান বলেন, গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সঙ্গে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সভাপতি ও একাধিক সদস্যের উপস্থিতি আমরা লক্ষ্য করেছি, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। কবর জিয়ারত একটি ধর্মীয় ও মানবিক বিষয় হলেও, এই অনুভূতিকে কেন্দ্র করে যদি প্রশাসনিক সখ্যতা গড়ে তোলা হয় এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে তা নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে, সাদা দলের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে আওয়ামী ঘরানার শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রশাসনিক পুনর্বাসনের ইঙ্গিত বহন করে।

তবে বাধ্য হয়েই জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকরা আওয়ামী লীগের আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি করেন নোবিপ্রবি বর্ধিত সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে যারা নিয়োগ পেতো প্রশাসন তাদের এত চাপে রাখতো যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এত রূদ্ধ করে ছিলো যে তাদেরকে কোন না কোন একটা দিকে আশ্রয় নিতে হতো। অনেকটা জিম্মির মতো। তাদের চাকরি পাওয়ার জন্য শিক্ষাজীবন শেষে তাদেরকে কোন না কোন কিছুর সাথে, যেহেতু সিনিয়র শিক্ষক যারা ছিলো তাদের মতের বাহিরে যাওয়া যাচ্ছিলো না ফলে তাদেরকে এটাচ হতে হয়েছে। কিন্তু তারা মনে-প্রাণে, মতে সবকিছুতে জাতীয়তাবাদী আদর্শ লালন করতো।

বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পূনর্বাসনের অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) বলেন, এটি ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত অরাজনৈতিক একটি প্রোগ্রাম। এখানে দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। কেউ আসলে আমরা তাকে বাধা দিতে পারি না।

বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোবিপ্রবি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেছে যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য বিষয় নয় দাবি করে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা আগ্রহী ছিলেন তারা গিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত প্রোগ্রামটি একটি অরাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিলো। এখানে কোনো দলীয় পরিচয় ছিল না।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ





মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা
২৫ জানুয়ারী ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:০১:২৫





লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিকে চাকরির মেলা
লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিকে চাকরির মেলা
২৫ জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৬:৫০


Follow Us