ইউএই প্রতিনিধি: চলতি বছরে বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন দিরহাম, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। রেমিটেন্স প্রবাহকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে কমার্শিয়ালি ইম্পরট্যান্ট পারসন (সিআইপি) মর্যাদা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন ৪১ জন, যা আবারও প্রমাণ করে রেমিটেন্স প্রবাহে আমিরাত প্রবাসীদের জোরালো ও শীর্ষস্থানীয় অবস্থান।


এই ৪১ জন সিআইপিকে নিয়ে রেমিটেন্স প্রবাহের ভিত্তি আরও মজবুত করা এবং প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনার লক্ষ্যে ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজন করে এক মতবিনিময় সভা। ‘মিট দ্য সিআইপি’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সংগ্রাম, সফলতা ও বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতার গল্প।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিআইপি মোহাম্মদ রুবেল ও সিআইপি মোহাম্মদ সিফাত উল্লাহ। তারা প্রবাস জীবনের শুরু থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পথচলার সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও নানা প্রতিবন্ধকতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। শূন্য হাতে প্রবাসে এসে কঠোর পরিশ্রম ও শ্রমঘাম ঝরিয়ে কীভাবে মিলিয়ন দিরহামের মালিক হয়েছেন এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠিয়ে সিআইপি মর্যাদা অর্জন করেছেন, সে গল্পও শোনান তারা।

তবে সিআইপিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর জন্য রাষ্ট্র তাদের সম্মানিত করলেও, সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ার কিছু দিক তাদেরকে হতাশ ও মানসিকভাবে আঘাত করেছে। একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করেননি বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এছাড়াও প্রবাসীরা ভিসা সংকট, প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উচ্চ খরচ, পোস্টাল ব্যালটের জটিলতা, বিমানবন্দরে হয়রানি এবং দেশে বিভিন্ন সেক্টরে প্রবাসীদের লাঞ্ছনা ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এসব সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমিরাত থেকে নির্বাচিত সিআইপিরা প্রবাসী কমিউনিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি অসহায় ও বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে সিআইপিদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সকল প্রবাসীকে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন রাষ্ট্রদূত।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সিআইপিদের হাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘জিরো থ্রি থিওরি’সহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান, আবুধাবি দূতাবাসের ডেপুটি ইনচার্জ শাহনাজ পারভীন রানুসহ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available