• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১২ই মাঘ ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৭:২৪:৫৮ (25-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:

ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত, তীব্র বিক্ষোভ

২৫ জানুয়ারী ২০২৬ সকাল ০৯:১৮:৩৯

ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত, তীব্র বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যেই ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরেক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর শহর থেকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। খবর আল জাজিরা

Ad

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা সাংবাদিকদের জানান, ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শনিবার হাসপাতালে মারা যান। তাকে একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল। নিহত ব্যক্তি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। নিহতের বাবা-মা তার পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, তার নাম অ্যালেক্স প্রেট্টি। তিনি একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নার্স হিসেবে কাজ করতেন।

Ad
Ad

এই প্রাণঘাতী ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ফেডারেল এজেন্ট ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবেই এসব অভিযান চলছিল। এর আগেও গত ৭ জানুয়ারি ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড নামের এক নারী নিহত হওয়ার পর থেকে মিনিয়াপোলিসে প্রতিদিনই বিক্ষোভ চলছিল। ওই ঘটনায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তা তার গাড়ির ভেতরে গুলি চালালে রেনি গুড মারা যান।

এছাড়া গত সপ্তাহে শহরে আলাদা এক ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককেও গুলি করে আহত করা হয়েছিল। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেন্ট পল শহরে আলাদা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নিষ্ঠুরতার এক অভিযান। আর আজ সেই অভিযানে আরেকটি প্রাণ ঝরে গেল’। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য নিজেই করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সদস্য এমন এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেন, যিনি একটি হ্যান্ডগান বহন করছিলেন এবং অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা প্রতিহত করছিলেন। বিভাগের মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, ওই ব্যক্তি হাতে বন্দুক নিয়ে এজেন্টদের দিকে এগিয়ে আসেন এবং কর্মকর্তারা তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে তিনি ‘হিংস্রভাবে প্রতিরোধ’ করেন। তখন এজেন্ট ‘আত্মরক্ষামূলক গুলি’ চালান।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প গভর্নর ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেন। তিনি উদ্ধার করা বন্দুকের ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘এটা কী ব্যাপার? স্থানীয় পুলিশ কোথায় ছিল? কেন তাদের আইসিই কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে দেয়া হলো না?’

ট্রাম্প আরও বলেন, ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়র ‘অহংকারী, বিপজ্জনক ও দম্ভপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছেন’।

ঘটনার সময় পথচারীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেট্টি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক এজেন্ট প্রেট্টি ও অন্য বিক্ষোভকারীদের দিকে পেপার স্প্রে ছোড়েন। প্রেট্টি স্প্রে ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং অন্যদের সহায়তা করেন। এ সময় কয়েকজন এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকেন।

তাকে মাটিতে চেপে ধরে রাখার সময় এক এজেন্ট অস্ত্র বের করেন এবং একের পর এক গুলি ছোড়া হয়। পরে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় প্রেট্টির নিথর দেহ। ওপেন সোর্স অনুসন্ধানকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রথম গুলি ছোড়ার আগেই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বন্দুক সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। সংস্থাটি জানায়, ‘দুজন আলাদা এজেন্টকে গুলি চালাতে দেখা যায়। অন্তত ১০টি গুলির শব্দ শোনা গেছে। এর বেশিরভাগই তখন ছোড়া হয়, যখন লোকটি ইতোমধ্যেই মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে ছিল।’

পুলিশপ্রধান ও’হারা বলেন, পুলিশ ধারণা করছে নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত একজন বন্দুক মালিক ছিলেন।

মূলত মিনেসোটায় অনুমতিসাপেক্ষে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের সুযোগ রয়েছে। পুলিশপ্রধান জনগণ ও ফেডারেল বাহিনী— উভয়ের কাছেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি, আমাদের শহরে যারা ফেডারেল সংস্থা হিসেবে কাজ করছে, তারা যেন একই শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, যেভাবে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়। আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ঘটনার পর শত শত বিক্ষোভকারী ওই এলাকায় জড়ো হয়ে সশস্ত্র ও মুখোশধারী এজেন্টদের ঘিরে ধরেন। এ সময় ফেডারেল বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গালাগাল করেন, তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে চিৎকার করেন এবং বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পরে ফেডারেল এজেন্টরা এলাকা ছাড়লে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, যদিও বিক্ষোভকারীরা আরও কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় অবস্থান করেন।

গভর্নর ওয়ালজ জানান, ঘটনার পর তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি এক্সে লেখেন, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করতে ‘সবকিছু করছে’। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলতে ও শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ





মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা
২৫ জানুয়ারী ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:০১:২৫





লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিকে চাকরির মেলা
লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিকে চাকরির মেলা
২৫ জানুয়ারী ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৬:৫০


Follow Us