আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর প্রদেশের শামলি ও মেরঠ এলাকায় আয়ুষ মালিক (৩১), যিনি এখন নিজেকে মোহাম্মদ আলী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তার ঈদের নামাজ পড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর ঘটনাটি ঘিরে একটি পুলিশ মামলা দায়ের করা হয় এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তার বাবা দেবরাজ মালিক লিখিত অভিযোগ করেছেন, যিনি শামলি মেডিসিন ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের একজন ব্যবসায়ী নেতা। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চাঁদনি কুরেশি ও তার বাবা ইসলাম কুরেশিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আয়ুষ মালিকের বাবা দেবরাজ মালিক বলেন, ‘আমার ছেলের সম্পর্ক ও ধর্মান্তরের বিষয়টি আমি জানতাম এবং ব্যক্তিগতভাবে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলাম। সে আমার একমাত্র ছেলে। কিন্তু ছবি ভাইরাল হওয়ার পর হিন্দু সংগঠনগুলো বিষয়টিতে যুক্ত হয়, এরপরই পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।’
তবে আয়ুষ মালিক অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি নিজের সিদ্ধান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং চার বছর আগে চাঁদনি কুরেশিকে বিয়ে করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ইসলামের প্রতি আগ্রহ ছিল। ২০১২ সাল নাগাদ আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। প্রায় চার বছর আগে আমি ইসলাম গ্রহণ করি এবং একই সময়ে চাঁদনিকে বিয়ে করি। আমি বিষয়টি গোপন রেখেছিলাম সামাজিক পরিস্থিতির কারণে, তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিবারকে জানিয়েছি। আমি প্রাপ্তবয়স্ক, আমার স্ত্রীও প্রাপ্তবয়স্ক। আমরা আইনগতভাবে যা করেছি তা বৈধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তার (স্ত্রীর) জন্য লড়াই করব।’

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে আয়ুষ মালিক তার পরিবারের মালিকানাধীন একটি মেডিকেল স্টোরে কাজ করা চাঁদনির ভাইয়ের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচিত হন।
শামলির পুলিশ সুপার এন.পি. সিং বলেন, ‘পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আয়ুষকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এবং পারিবারিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।’
এই অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদনি কুরেশি, তার বাবা এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, ষড়যন্ত্র, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং উত্তর প্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে। তবে আয়ুষ মালিক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সম্পত্তির ভাগ চান না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনির ভাই আজম মোহাম্মদ আগে আয়ুষের একটি মেডিকেল দোকানে কাজ করতেন। পরে চাঁদনি ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং পরে আয়ুষের জিম প্রশিক্ষক হন। তাদের সম্পর্ক পরে দিল্লির একটি মসজিদে প্রায় চার বছর আগে বিয়েতে রূপ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, তদন্তে আরেকটি দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে—আয়ুষ পাকিস্তানভিত্তিক ধর্মীয় বক্তা ইসার আহমেদের শিক্ষায় প্রভাবিত হয়েছেন কি না।
অন্যদিকে, আয়ুষের বাবা দাবি করেন, কয়েক মাস আগে তিনি ছেলের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করেন এবং ব্যবসায় ক্ষতির কথাও বলেন। পরে ছেলের ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলোও তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া,
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available