আশঙ্কা হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এক চরম নাটকীয় মোড় নিলো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার কঠোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইরানি নৌবাহিনীর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে এই সরু জলপথ দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাজারের প্রাণকেন্দ্র। বৈশ্বিক তেলের বাজারের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই পথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধসের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে ক্যাস্পিয়ান পোস্ট জানিয়েছে, বর্তমানে তেলের দাম ৮০ ডলারের আশেপাশে থাকলেও, এই অচলাবস্থার কারণে তা লাফিয়ে ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।ভারত মহাসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান অবস্থিত। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের মতো দেশগুলো তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেল এই পথ দিয়েই বিশ্ববাজারে পাঠায়। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫-২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) ৩০ শতাংশেরও বেশি এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জ্বালানির প্রায় ৮২ শতাংশই যায় এশিয়ার দেশগুলোতে। বিশেষ করে চীনের মোট এলএনজি আমদানির ২৪ শতাংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করে, যা ব্যস্ততম সময়ে প্রতি ছয় মিনিটে একটির সমান।ইরানি সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রুট বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এক ধাক্কায় তলানিতে ঠেকবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।ইসরায়েলি হামলার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৮.৫ ডলারে পৌঁছেছে। যেখানে জেপি মরগানের মতো সংস্থাগুলো তেলের দাম ১৩০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিচ্ছে, সেখানে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যারেল প্রতি দাম ২৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।